শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢালাও সাজা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা: আইনের শাসন রক্ষায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি অনিশ্চিত ছিল এসএসসি, শুভর পাশে দাঁড়াল এবিজি ফাউন্ডেশন সাবেক তারকাদের উপস্থিতিতে জমজমাট আয়োজনে শুরু হলো এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬: উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি যারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রস্তুতি ম্যাচে প্রশংসিত আনভীর স্টেডিয়াম সরকারি পদ আর বিক্রির পণ্য নয়, চাই স্বচ্ছ পদায়নব্যবস্থা এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’-এর অধিনায়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত সোনা-হীরা চোরাচালান মামলায় বনানী থেকে গ্রেপ্তার দিলীপ কুমার আগারওয়ালা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ দিয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম

জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফ্যান্টাসি কিংডম: কনকর্ডের নির্মাণকথা

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫
  • ১২০ বার পঠিত

আপনি কি কখনো ঢাকার আকাশপানে তাকিয়ে দেখেছেন-কিভাবে সুউচ্চ অট্টালিকাগুলো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, গড়ে তুলছে এক আধুনিক মহানগরীর অবয়ব? এই শহরের দিগন্ত বদলে যাওয়ার যে অধ্যায়, তার সূচনালগ্নেই যে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিল, সেটি হলো কনকর্ড।

স্বাধীনতার পর মাত্র দু’বছর পেরিয়েছে, ১৯৭৩ সাল। বাংলাদেশ তখন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে। সেই সময়ে, যুদ্ধবিধ্বস্ত সেতু নির্মাণ দিয়ে যাত্রা শুরু করে এক প্রতিষ্ঠান-যার নাম কনকর্ড। তখনই দেশের পুনর্গঠনের প্রতীক হয়ে উঠতে শুরু করে এই প্রতিষ্ঠানটি।

১৯৭৫ সালে এস.এম. কামাল উদ্দিনের হাত ধরে কনকর্ডের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। আজও তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, সততা ও দুরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে চলছে।

ঢাকার প্রথম ২০ তলা ভবন-বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ভবন, যে ভবনের মাধ্যমে রাজধানীর দিগন্তে প্রথম ছোঁয়া লাগল উচ্চতার, সেই ভবনের নির্মাতা কনকর্ড। এরপর একে একে আইডিবি ভবন, জীবন বীমা ভবন, পুলিশ প্লাজা, লেক সিটি কনকর্ড, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার-চট্টগ্রাম, শাহজালাল বিমানবন্দরসহ অসংখ্য গর্বের প্রকল্পে যুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটির নাম।

১৯৮২ সালে মাত্র ৮৯ দিনে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ, স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেনের নকশা আর কনকর্ডের কারিগরি দক্ষতা-আজও সেই স্তম্ভ মাথা উঁচু করে ইতিহাসকে স্মরণ করায়।

১৯৯৮ সালে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে টেকসই নির্মাণ প্রযুক্তির প্রথম ধাপ রাখে কনকর্ড। আজ সেই সিদ্ধান্ত সরকারের নীতিমালার সঙ্গে একাকার। তারা এখন দেশের বৃহত্তম গ্রীন ব্লক উৎপাদক ও ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।

কনকর্ড আজ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি পরিবারকে আবাসন সুবিধা দিয়েছে। তাদের প্রতিটি প্রকল্পে শুধু ভবন নয়, গড়ে উঠেছে একেকটি ছোট সামাজিক কাঠামো-যেখানে মানুষ বাঁচে, বেড়ে ওঠে, স্বপ্ন দেখে।

২০০২ সালে ফ্যান্টাসি কিংডম চালুর মাধ্যমে কনকর্ড এক নতুন বিনোদন সংস্কৃতির জন্ম দেয় দেশে। এরপর চট্টগ্রামে ফয়’স লেক প্রকল্প প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সংরক্ষণ এবং পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

১০ জুলাই কনকর্ড গ্রুপ উদযাপন করল তাদের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ঢাকায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কনকর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ফারিদা কামাল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামাল, পরিচালক কমপ্লায়েন্স নাজিয়া করিশমা কামাল সহ প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এটি ছিল শুধু এক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং কনকর্ড পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতির এক দিন। কর্মীদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কনকর্ড জানায়, নতুন উদ্যোগ এবং কর্মসূচির মাধ্যমে তারা আরও এগিয়ে যাবে।

জাতীয় উন্নয়ন, প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব নির্মাণ, আবাসন, অবকাঠামো-সবক্ষেত্রেই কনকর্ড রেখেছে অবিস্মরণীয় অবদান। আজ যখন বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার, সেই স্বপ্নের প্রতিটি স্তম্ভেই রয়েছে কনকর্ডের ছোঁয়া।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আগামী ৫০ বছর নিয়ে কনকর্ডের লক্ষ্য আরও বড়-উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা, সবার জন্য।

 

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ