শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢালাও সাজা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা: আইনের শাসন রক্ষায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি অনিশ্চিত ছিল এসএসসি, শুভর পাশে দাঁড়াল এবিজি ফাউন্ডেশন সাবেক তারকাদের উপস্থিতিতে জমজমাট আয়োজনে শুরু হলো এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬: উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি যারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রস্তুতি ম্যাচে প্রশংসিত আনভীর স্টেডিয়াম সরকারি পদ আর বিক্রির পণ্য নয়, চাই স্বচ্ছ পদায়নব্যবস্থা এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’-এর অধিনায়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত সোনা-হীরা চোরাচালান মামলায় বনানী থেকে গ্রেপ্তার দিলীপ কুমার আগারওয়ালা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ দিয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম

বন্যার দুর্যোগে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৮৭ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকাও প্লাবিত হচ্ছে। এতে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষি, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশের অর্থনীতি আগে থেকেই মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

সরকারের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের সময় তারা একটি চাপের মধ্যে থাকা অর্থনৈতিক বাস্তবতা পেয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে উৎপাদন, বিনিয়োগ, রপ্তানি, শিল্প খাত এবং কর্মসংস্থানেও চাপ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে চলতি বন্যায় কৃষিজমি, ফসল, মাছের খামার, গবাদিপশু, ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা, জীবিকা এবং পুনর্বাসন এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে একসঙ্গে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার কঠিন দায়িত্ব রয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু সরকারের উদ্যোগই নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সামাজিক সংহতি এবং সম্মিলিত জাতীয় প্রচেষ্টা।

তাদের মতে, সরকার, রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিক—সবার সমন্বিত উদ্যোগে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্য, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও জীবিকা পুনর্গঠনের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশ অতীতেও বহু প্রাকৃতিক দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। সেই অভিজ্ঞতা ও জাতীয় ঐক্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সংকটও মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দুর্যোগের এই সময়ে বিভাজন নয়, ঐক্য ও মানবিক সহযোগিতাই হতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ