শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢালাও সাজা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা: আইনের শাসন রক্ষায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি অনিশ্চিত ছিল এসএসসি, শুভর পাশে দাঁড়াল এবিজি ফাউন্ডেশন সাবেক তারকাদের উপস্থিতিতে জমজমাট আয়োজনে শুরু হলো এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬: উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি যারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রস্তুতি ম্যাচে প্রশংসিত আনভীর স্টেডিয়াম সরকারি পদ আর বিক্রির পণ্য নয়, চাই স্বচ্ছ পদায়নব্যবস্থা এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’-এর অধিনায়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত সোনা-হীরা চোরাচালান মামলায় বনানী থেকে গ্রেপ্তার দিলীপ কুমার আগারওয়ালা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ দিয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম

আবদুস সাদেকের প্রয়ানে নিভে গেল ক্রীড়াঙ্গনের আলো

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ৮৬ বার পঠিত

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। ফুটবল ও হকিতে সমানভাবে আলো ছড়ানো কিংবদন্তি সংগঠক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আবদুস সাদেক আর নেই। তাঁর মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক যুগের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার মধ্যেই এমন এক শোকাবহ সংবাদে স্তব্ধ হয়ে যায় ক্রীড়াঙ্গন। আবদুস সাদেকের প্রস্থানকে অনেকেই দেশের ফুটবল ও হকি ইতিহাসের “একটি আলোকবর্তিকা নিভে যাওয়া” হিসেবে বর্ণনা করছেন।

নেতৃত্ব, সাহস আর ইতিহাসের নাম আবদুস সাদেক
বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে আবদুস সাদেক ছিলেন এক অনন্য নাম। স্বাধীনতার পর দেশের হকি ও ফুটবলের সংগঠিত কাঠামো গড়ে তোলার শুরুর দিকের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব তিনি।

ঢাকা আবাহনী ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ১৯৭২ সালে ফুটবল দল গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি আবাহনীর ফুটবল ও হকি—উভয় দলেরই প্রথম অধিনায়ক হওয়ার বিরল গৌরব অর্জন করেন।
জাতীয় পর্যায়েও তাঁর অবদান ছিল স্মরণীয়। স্বাধীন বাংলাদেশ হকি দলের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে কোচ ও সংগঠক হিসেবেও দীর্ঘ সময় কাজ করেন।

মাঠের ভেতর-বাইরে সংকটের নায়ক

খেলোয়াড়ি জীবনের বাইরেও আবদুস সাদেক ছিলেন সংকটকালীন ক্রীড়াঙ্গনের ভরসার নাম। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আবাহনী ক্লাব যখন অস্তিত্ব সংকটে পড়ে, তখন অনেকেই সরে দাঁড়ালেও তিনি ক্লাবের হাল ধরেন।

হকি অঙ্গনে একসময় চরম অনিশ্চয়তার সময়েও তিনি সামনে এসে ক্লাব ও ফেডারেশনকে মাঠে ফেরানোর উদ্যোগ নেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনী দক্ষতার কারণে বহুবার স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠে দেশের ক্রীড়া প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি

১৯৮৫ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপ হকি আয়োজনের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল নির্ধারক। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে আস্থার জায়গায় দাঁড় করাতে তিনি

গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নেতাদের কাছ থেকেও তিনি প্রশংসা পেয়েছেন তাঁর দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের জন্য।

ক্রীড়া ঐতিহ্যের পরিবার

আবদুস সাদেকের পরিবারও ক্রীড়ার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর পরিবারে ক্রীড়াচর্চার ঐতিহ্য বহু পুরোনো, যা তাঁর জীবন ও নেতৃত্বে প্রভাব ফেলেছে।

এক অপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অনেক প্রবীণ ব্যক্তিত্বকে নিয়ে একটি স্মরণীয় আড্ডা ও ফ্রেমে বন্দি করার পরিকল্পনা থাকলেও তা আর পূর্ণতা পেল না। একে একে বিদায় নিচ্ছেন সেই সোনালি যুগের অভিভাবকেরা—যার সর্বশেষ সংযোজন আবদুস সাদেক।

তাঁর মৃত্যুতে ফুটবল ও হকি অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। ক্রীড়া সংগঠকরা বলছেন, এটি শুধু একজন মানুষের মৃত্যু নয়—একটি যুগের অবসান।

বিদায়, ক্রীড়াঙ্গনের আলো।

Facebook Comments Box

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ